Saturday, 2 February 2013

অভিযোগ অস্বীকার দিল্লি ধর্ষণ মামলার অভিযুক্তদের

৩রা ফেব্রুয়ারী : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : নয়াদিল্লির ধর্ষণ ও হত্যা মামলার পাঁচ আসামী তাদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দুই অভিযুক্তের আইনজীবী এ কথা জানিয়েছেন।  শনিবার আদালতে অভিযুক্তদের উপস্থিতিতে ধর্ষণ ও হত্যাসহ ১৩টি অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর নির্জেদের নির্দোষ দাবি করে। মুখে ঢেকে আদালতে নেওয়া হয় অভিযুক্তদের। দুই অভিযুক্ত বিনয় শর্মা ও অক্ষয় ঠাকুরের আইনজীবী এ পি সিং বলেন, “বিচারক অভিযোগ পড়ে শোনানোর পর দোষ অস্বীকার করে এবং বেরিয়ে যায়।” এ পি সিং জানান, আগামী শুনানির দিন ৫ ফেব্রুয়ারি ধার্য করা হয়েছে।
এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরুর জন্য তিন জন সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে জানিয়েছে আদালত। ষষ্ঠ অভিযুক্তের বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় কিশোর আদালতে তার বিচার হবে। দিল্লির একটি দ্রুত বিশেষ আদালতে প্রাপ্ত বয়স্ক ৫ অভিযুক্তের বিচার হচ্ছে। পুলিশের অভিযোগপত্রে বাসচালক রাম সিং, তার ভাই মুকেশ, ফল বিক্রেতা পাভান গুপ্তা, শরীরচর্চার প্রশিক্ষক বিনয় শর্মা ও বাসের পরিচ্ছনতাকর্মী অক্ষয় ঠাকুরের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে আলামত নষ্ট করা ও অপরাধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড হতে পারে তাদের। নয়াদিল্লির তিহার কেন্দ্রীয় জেলে তারা সবাই আটক রয়েছেন। ১৯ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ওই অভিযুক্ত ৫ জনের ডিএনএ টেস্ট করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। গত ১৬ ডিসেম্বর রাতে নয়াদিল্লিতে একটি চলন্ত বাসে গণধর্ষণের শিকার হন ২৩ বছর বয়সী মেডিকেল ছাত্রী। ধর্ষণের আগে মেয়েটিকে আঘাত করে নরপশুরা। মেয়েটির সঙ্গী বন্ধু বাধা দিতে চাইলেও তাকেও বেদম পেটানো হয়। ধর্ষণের পর মেয়েটি ও তার বান্ধবীকে রাস্তায় ছুড়ে মারে ধর্ষকরা। জীবনের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে ২৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মেয়েটি।

ধর্ষণের এ ঘটনার পর রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও নারীদের নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে আন্দোলন হচ্ছে।

No comments:

Post a Comment