৩রা ফেব্রুয়ারী : আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরাকের কিরকুক শহরে রোববার একটি পুলিশ সদর দপ্তরে আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় কমপক্ষে ৩০ নিহত ও ৭০ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে এক পুলিশ প্রধানও রয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাতাহ মোহাম্মেদ সাবের বলেন, “জঙ্গিরা সদর দপ্তর চত্বর দখল নেওয়ার জন্য হামলা চালায় কিন্তু তারা ব্যর্থ হয়েছে।” জরুরি সেবা বিভাগের এই প্রধান বলেন, “সকালের ব্যস্ততম সময়ে শহরের কেন্দ্রে হামলাকারী হামলা করে। জঙ্গিরা বন্দুক, গ্রেনেড ও আত্মঘাতী পোশাক পরে গাড়িবোমা হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সদর দপ্তরে ঢোকার চেষ্টা করে।” হামলায় পাশ্ববর্তী ভবনগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানান তিনি। কোসরাত হাসান করিম নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, “প্রধান ফটকে একটি গাড়ি এসে থামে এবং পুলিশ গাড়িটি তল্লাশি শুরু করে।
হঠাৎ একটি বিকট শব্দ হয়, এটি ভয়াবহ ছিল।” প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছে, বোমা বিস্ফোরিত হওয়ার পরপরেই পুলিশের পোশাক পরহিত দুই জঙ্গী বন্দুক, গ্রেনেড এবং আত্মঘাতী বিস্ফোরণ সরঞ্জামাদি ও পোশাক নিয়ে সদর দপ্তরের প্রধান ফটকের দিকে দৌঁড়ে যায়। তারা আরও বিস্ফোরণের চেষ্টা করে । এসময় পুলিশ তাদের গুলি করে। গুলিতে জঙ্গিদের একজন নিহত হয়। হামলার পর শহরের কেন্দ্রের যানচলাচল বন্ধ থাকে এবং আশপাশের কার্যালয়গুলো থেকে লোকদের সরিয়ে নেওয়া হয়। রোববারের ওই পরিকল্পিত হামলার দায় এ পর্যন্ত কেউ স্বীকার করেনি।
তবে আল কায়েদা সংশ্লিষ্ট জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো প্রায়ই সরকারি বাহিনী ও স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালায়। দুই সপ্তাহ আগে কিরকুকে কুর্দি ডেমোক্রেটিক পার্টির কার্যালয়ে আত্মঘাতী বোমা হামলায় কমপক্ষে ১০ জন নিহত হয়। সরকার ও ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত উত্তরাঞ্চলীয় কুর্দি অঞ্চল উভয়ের দাবি করা বিতর্কিত এলাকায় অবস্থিত কিরকুক।ইরাকের কেন্দ্রীয় সরকার ও কুর্দিদের মধ্যে কিরকুকের তেল ও ভূখণ্ড দিয়ে বিবাদ রয়েছে। আরব, কুর্দি ও তুর্কিদের মিশ্র আবাসস্থল কিরকুক। কুর্দিরা কিরকুকে তাদের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের সঙ্গে যোগ করতে চায় কিন্তু আরব ও তুর্কিরা এর বিরোধিতা করে এবং তারা চায় বাগদাদই সরাসরি কিরকুককে শাসন করুক।

No comments:
Post a Comment