আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একমাত্র পরমাণু কেন্দ্রের কাছে ৬.৩ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছে ৮৫০ মানুষ। হতাহতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে উদ্ধারকারী কর্তৃপক্ষ। দেশটির ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ দপ্তরের উদ্বৃতি দিয়ে রাষ্ট্রিয় টেলিভিশন জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা ২২ মিনিটে পারস্য উপসাগরীয় বন্দর শহর বুশেহর’র ৯০ কিলোমিটার দক্ষিণে কাকি এলাকায় ভূ-গর্ভের ১২ কিলোমিটার গভীরে আঘাত হানে ভূমিকম্পটি।
দেশটির ভূ-তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দাবি, রিকটার স্কেলে ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৬.১ মাত্রা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূ-তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা ইউএসজিএস’র মতে, ভূমিকম্পটি ৬.৩ মাত্রার চেয়েও শক্তিশালী ছিল। ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমিকম্প উপদ্রুত এলাকায় ইতোমধ্যে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। তবে রাত নেমে আসায় উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকার আরও দাবি করেছে, এ ভূমিকম্পে পরমাণু কেন্দ্রটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়নি। এর কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে। ভূমিকম্প উপসাগরীয় দুবাই, আবুধাবি ও বাহরাইনেও অনুভূত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আঘাত হানা এলাকার ৫০টি গ্রামে অন্তত ১২ হাজার মানুষ বসবাস করে বলে জানিয়েছে দেশটির জনশুমারি কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভূমিকম্পের সময় প্রায় ৩০ সেকেন্ড ধরে বাড়ি-ঘরগুলো কাঁপছিল। ইরানের সংবাদ মাধ্যম জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে বিদ্যুৎ ও টেলিফোনসহ সার্বিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় রেড ক্রিসেন্ট কর্মকর্তা মাহমুদ জাফর বলেন, “ভূমিকম্পে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষত, এ অঞ্চলের ১২ হাজার মানুষ বাস্তুহারা হয়ে যেতে পারেন।” উল্লেখ্য, গত বছরের আগস্টে ইরানে ৬.২ ও ৬.০ মাত্রার দুই দফা ভূমিকম্পে অন্তত ৩০০ জন লোক নিহত হয়। আহত হয় আরও ৩ হাজার মানুষ। ২০১০ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণাঞ্চলের বাম শহরে আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩১ হাজার মানুষ নিহত হয়।

No comments:
Post a Comment