আন্তর্জাতিক ডেস্ক : পূর্ণাঙ্গ শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে মার্গারেট থ্যাচারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হলো। রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ, তাঁর স্বামী প্রিন্স ফিলিপসহ বিশ্বের ১৭০ টি দেশ থেকে প্রায় দুই হাজারের বেশি অতিথি থ্যাচারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগদান করেন। এর আগে সকালে পার্লামেন্ট ভবন থেকে জাতীয় পতাকা মোড়ানো থ্যাচারের মরদেহ সেন্ট পল’সের ক্যাথেড্রলে নিয়ে আসা হয়। সেন্ট পল’সে মরদেহ রাখার পর প্রার্থনা শুরু হয়। কফিনে করে মরদেহ নিয়ে আসার সময় থ্যাচারের হাজারো সমর্থক লন্ডনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে শ্রদ্ধা জানান ব্রিটেনের ইতিহাসের প্রথম প্রধানমন্ত্রীকে।
পার্লামেন্ট ভবন থেকে নীরব শোভাযাত্রার মাধ্যমে থ্যাচারকে সেন্ট পল’সে আনা হয়। কফিনের ওপর সাজানো হয়েছে সাদা ফুলের তোড়া দিয়ে। আর এর ওপরে একটি কার্ডে লেখা রয়েছে-‘প্রিয় মা, সবর্দাই আমাদের হৃদয়ে’। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উপলক্ষে কেন্দ্রীয় লন্ডন চার হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। থ্যাচারকে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় সমাহিত করা হয়। প্রথমে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাহিত করার কথা থাকলেও পরে সামরিকভাবে সমাহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কারণ রাষ্ট্রীয়ভাবে সমাহিত করার জন্য পার্লামেন্টে ভোটের প্রয়োজন হয়। সময়স্বল্পতার জন্য তা আর করা হয়নি। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন। বিদেশি নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রভাবশালী মার্কিন রাজনীতিবিদ ডিক চেনি, হেনরি কিসিঞ্জিার এবং কানাডা, ইসরাইল, ইতালি, পোলান্ড এবং কুয়েটের প্রধানমন্ত্রীরা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি ন্যান্সি রিগান, সাবেক সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্ভাচেভ, জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল, বিল ক্লিটন, জজ ডব্লিউ বুশের মতো বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতা এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ গ্রহণ করেননি। অবশ্য, এদের কেউ কেউ নিজের প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের পাঠিয়েছেন। জনগণের করের টাকায় ব্যয়বহুল (১০ মিলিয়ন পাউন্ড ) এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আয়োজন করায় সমালোচনাও কম হচ্ছে না। ১৯৭০ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত শাসন কাজে নিয়োজিত “লৌহমানবী” খ্যাত ব্রিটেনের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী গত ৪ এপ্রিল হৃদরোগ জনিত কারণে মারা যান।

No comments:
Post a Comment