আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : দক্ষিণ কোরিয়া সফররত যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পারমাণবিক শক্তিধর দেশ হিসাবে উত্তর কোরিয়াকে কখনোই মেনে নেয়া হবে না। যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে তার মিত্রদের জন্য প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা করবে। কয়েক সপ্তাহ ধরে পিয়ংইয়ংয়ের অবিরাম পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি দিয়ে যাওয়াটা ‘কোন মাপকাঠিতেই মেনে নেয়া যায় না’ উল্লেখ করে কেরি বলেন, কোনোরকম সংঘাত শুরু হলে এর পরিণতি কি হবে তা উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের ভেবে দেখা দরকার। কোরিয়া উপদ্বীপে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে পৌঁছান কেরি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট পার্ক জিয়ুন হাই এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাকালে কেরি পারমাণবিক অস্ত্রধর উত্তর কোরিয়াকে বরদাশত না করার ওই হুঁশিয়ারি দেন। তিনি আরো বলেন, উত্তর কোরিয়া তার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা কিংবা পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার হুমকি-ধামকি দিয়ে কিছুই অর্জন করতে পারবে না। তারা ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করলে তা ইতোমধ্যেই অস্থিতিশীল এবং বিপজ্জনক হয়ে ওঠা পরিস্থিতিকে কেবল আরো অবনতির দিকেই নিয়ে যাবে। উত্তর কোরিয়ার খুব শিগগিরি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারে- এ আশঙ্কায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া। উত্তর কোরিয়া ইতোমধ্যেই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জন্য নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে গেছে- এমন খবরের ভিত্তিতে এ আশঙ্কা জোরালো হয়ে দেখা দিয়েছে যে, দেশটি যে কোনো সময় মাঝারি-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করতে পারে। এমন পদক্ষেপ নিলে কিম জন উন ‘বড় ধরনের ভুল’ করবেন বলে মন্তব্য করেছেন কেরি। ওদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়ুন বায়ুং পিয়ংইয়ং এর যুদ্ধের হুমকিকে গোটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য ‘মারাত্মক উস্কানি’ বলে অভিহিত করেছেন। আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে উত্তর কোরিয়ার মিত্রদেশ চীন তার প্রভাব খাটাতে পারে বলেই কেরি মনে করছেন। আর এ কারণে এশিয়া অঞ্চল সফরকালে তিনি চীনকে উত্তর কোরিয়ার ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া এবং প্রভাব খাটানোর আহ্বান জানাবেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা। দক্ষিণ কোরিয়া সফরে যাওয়ার আগেই কেরি উত্তর কোরিয়াকে থামানোর জন্য চীনকে আহ্বান জানান।

No comments:
Post a Comment